কিশোরগঞ্জের আলোচিত পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্সে এবার পাওয়া গেছে ৩২ বস্তা টাকা। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় পাওয়া যায় ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। টাকা গণনা এখনও চলছে। টাকার সঙ্গে এবারও পাওয়া গেছে বহু বিদেশি মুদ্রা ও সোনা-রূপার অলংকারসহ অনেক চিঠিও। এর মধ্যে ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরকারের ক্ষমতায় থাকার আহ্বান জানিয়ে ‘শহীদ মাতা’ পরিচয়ে লেখা একটি খোলা চিঠি। চিঠিটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো…
দুই পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে তিনি লেখেন, হে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আমার সন্তানের প্রাণের বিনিময়ে আপনাকে পেয়েছি। আপনি যদি চলে যান, তাহলে আমার নাড়িছেঁড়া ধনকে আমার কোলে ফিরিয়ে দিয়ে তবেই যান। আমার মতো মায়েদের অনুমতি না নিয়ে আপনি কীভাবে চলে যেতে বলেন? ভেবেছিলাম আপনি অনেক জ্ঞানী। কিন্তু কই আপনার জ্ঞান? বিশ্ব জয় করতে পারেন, নোবেল জয় করতে পারেন, আর সামান্য বাংলাদেশটাকে সাজিয়ে দিতে পারেন না?
আমি তো আমার সন্তানকে আন্দোলনে পাঠাতে কৃপণতা করিনি। আপনি যদি চলে যান, আমার মতো মায়েরা হেরে যাবে। মহান আল্লাহর কাছে এই দোয়া রেখে যাই, আপনি যতদিন এদেশ সঠিকভাবে চালাতে পারেন, ততদিন যেন আল্লাহ আপনাকে এদেশের নেতৃত্বে রাখেন। আমীন।
‘আপনি বাংলাদেশের হৃৎপিণ্ড। হৃৎপিণ্ড ছাড়া তো বাংলাদেশ বাঁচতে পারে না। এদেশের মানুষের অনুমতি না নিয়ে যদি আপনি চাল যান, তাহলে এদেশের মানুষ আপনাকে ক্ষমা করবে না। প্রয়োজনে গণভোটের আয়োজন করুন। গুটি কয়েকজন নির্বাচনমুখী মানুষের চাপে যদি আপনি ভুলে যান, এদেশের কোটি কোটি মানুষের প্রাণের দাবির কথা, তাহলে এটা হবে লজ্জার। হে আল্লাহ- পাগলা মসজিদের মাধ্যমে আমার কথাগুলো নোবেল বিজয়ীর কানে পৌঁছে দিও। আমীন’।
প্রসঙ্গত, গত ১২ এপ্রিল ১১টি দানবাক্সের ২৮ বস্তা টাকা গণনা করে পাওয়া গিয়েছিল সর্বোচ্চ ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। পাওয়া গিয়েছিল বেশকিছু বিদেশি মুদ্রা ও সোনা-রূপার অলংকার। এ ছাড়া গত ৪ জুলাই থেকে দূরদূরান্তের ভক্তদের জন্য চালু করা হয় ডোনেশন ওয়েবসাইট। সেখানেও গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া গেছে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা।