ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে চিকিৎসকদের অনৈতিক সুবিধা নেয়া বন্ধে ওষুধের নমুনা বা উপহার দেয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য খাত বিষয়ক সংস্কার কমিশন। সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়া কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে দৈনন্দিন প্রোডাক্ট প্রমোশন করতে পারবেন না।
এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র ডাক্তারদের ই-মেইল বা ডাকযোগের মাধ্যমে তাদের পণ্য সম্পর্কিত তথ্য পাঠাতে পারবে। প্রতিবেদনে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সংবিধান সংশোধন করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করা; স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় আয়ের ৫ শতাংশ এবং বাজেটের ১৫ শতাং বরাদ্দ দেওয়া; স্বাস্থ্য খাতে নিয়োগের জন্য স্বতন্ত্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠনসহ আরও অনেকগুলো সুপারিশ করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে বিভাগীয় পর্যায়ে ১১টি আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ গঠন এবং বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এর বিকেন্দ্রীকরণ; বাজেট ও পরিকল্পনায় আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা প্রদান করে কার্যকর ও স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করা ইত্যাদি।
স্বাস্থ্যখাতের অস্থিতিশীলতা মোকাবেলায় পেশাগত নিরপেক্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা (১৯৭৯) অনুযায়ী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করারও সুপারিশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং সরাসরি দলীয় রাজনীতি সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নির্বাহী পদে না রাখারও প্রস্তাব করেছে কমিশন।