কারাগারে যাওয়ার একদিন পরই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। তাকে এরই মধ্যে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। রাখা হয়েছে আইসিইউতে। গত শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিক্রমাসিংহেকে গ্রেপ্তার করে শ্রীলঙ্কার অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা নেয়া হয়। এরপর আদালত তার চারদিনের রিমান্ড দেন।
শনিবার (২৩ আগস্ট) অসুস্থ হয়ে পড়েন বিক্রমাসিংহে। এরপর তাকে দ্রুতই কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালে নেয়া হয়। এখন সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। হাসপাতালের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, তার শরীরে মারাত্মকভাবে পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে। তার নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন। গুরুতর জটিলতা এড়াতে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারাগারের চিকিৎসা কেন্দ্র তার জন্য যথেষ্ট ছিল না। তাই দ্রুত তাকে রাষ্ট্রীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ২০২২ সালে গণবিক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পর প্রেসিডেন্ট হন বিক্রমাসিংহে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছ থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিশ্চিত করে দেশকে অর্থনৈতিক সংকট থেকে টেনে তোলেন।
এরপরও গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অনুরা কুমারা দিশানায়েকের কাছে হেরে যান বিক্রমাসিংহে। ক্ষমতায় এসেই দিশানায়েক দুর্নীতি দমনের অভিযান জোরদার করেন। এরই মধ্যে সাবেক দুই মন্ত্রীকে সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।
বিক্রমাসিংহের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাজ্যে যান। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কিউবার জি-৭৭ সম্মেলন ও জাতিসংঘ অধিবেশন থেকে ফেরার পথে তিনি লন্ডনে অবস্থান করে স্ত্রীর সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ সফরে ১ কোটি ৬৬ লাখ রুপি (৫৫ হাজার ডলার) সরকারি অর্থ খরচ হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং তিনগুণ অর্থদণ্ড হতে পারে। যদিও বিক্রমাসিংহের দাবি, স্ত্রীর ব্যয় তিনি নিজেই বহন করেছেন।
গ্রেপ্তারের পর সাবেক প্রেসিডেন্টকে কলম্বোর নিউ ম্যাগাজিন কারাগারে দেখতে যান প্রধান বিরোধী দল এসজেবির এমপি নালিন বান্দারা। এ সময় তিনি বলেন, আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারেন এমন আশঙ্কায় বিক্রমাসিংহেকে কারাগারে পাঠিয়েছে বামপন্থি সরকার।