বিশ্বজুড়ে নতুন বাণিজ্য উত্তেজনার সূচনা হলো আজ থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন করে যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছেন, সেটি আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে। হোয়াইট হাউস বলছে, এসব শুল্কের উদ্দেশ্য হলো আমেরিকার অর্থনীতি ও শিল্পখাতকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ‘অন্যায় বাণিজ্যিক আচরণে জড়িত দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। বিবিসি বলছে, ট্রাম্প বুধবার (৬ আগস্ট) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, এখন মধ্যরাত! বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের শুল্ক আমেরিকায় ঢুকছে!
বাংলাদেশের পণ্যে বাড়তি শুল্ক
শেষ মুহূর্তে আলোচনার পর বাংলাদেশের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আগের গড় শুল্ক (১৬.৫ শতাংশ) যুক্ত হয়ে মোট শুল্কহার এখন দাঁড়াচ্ছে ৩৬.৫ শতাংশে।
ভারতের ওপর চাপে যুক্তরাষ্ট্র
ভারতের ওপর শুল্ক আরো বাড়িয়ে মোট ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চায়, ভারত যেন রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি বন্ধ করে। ভারত এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়, অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। নতুন শুল্ক ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
প্রযুক্তিপণ্য ও সেমিকন্ডাক্টর টার্গেট
বিদেশে তৈরি সেমিকন্ডাক্টরের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে অ্যাপল, টিএসএমসি ও স্যামসাংয়ের মতো যেসব কোম্পানি আমেরিকায় বড় বিনিয়োগ করেছে, তারা এই শুল্ক থেকে ছাড় পাবে। অ্যাপল ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত
লাওস ও মিয়ানমারের ওপর সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের সঙ্গে যেসব দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ, সেগুলোকেই টার্গেট করা হচ্ছে।
কানাডা, ইউরোপ ও অন্য দেশের অবস্থা
কানাডার ওপর শুল্ক ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হলেও পুরোনো চুক্তির কারণে অনেক পণ্যই শুল্কের বাইরে থাকবে। মেক্সিকোর ওপর বাড়তি শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপান আগেই চুক্তির মাধ্যমে শুল্ক কমিয়ে নিয়েছে।
চীন-আমেরিকা আলোচনা চালাচ্ছে
চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আলোচনায় ব্যস্ত, যাতে ১২ আগস্ট শেষ হতে যাওয়া ৯০ দিনের শুল্ক বিরতির সময়সীমা বাড়ানো যায়। বিশ্বব্যাপী ব্যবসা ও বাণিজ্যে এই শুল্ক পরিবর্তনের ফলে নতুন চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে কতটা পড়বে, তা গভীর নজরদারিতে রয়েছে।