স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার দায়-দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারকে নিতে হবে। সরকারকে এটার সমাধান করতে হবে। এই হামলার বিচার করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা কেউ ঘটানোর সাহস না করতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতিকে দেখতে যান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। পরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, জাতীয় পার্টির ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। ফ্যাসিবাদী শক্তিরা এখন নানাভাবে তাদের শক্তি প্রদর্শন করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্বে ছিলেন, তাদের ওপর পরাজিত হওয়ার যে আক্রোশ, তা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের প্রতি আমরা কড়া হুঁশিয়ারি দিতে চাই।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জন্য। জানতে পেরেছি, গত শুক্রবারের কর্মসূচির আগেও গণঅধিকার পরিষদ ও নুরুল হক নুরকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। কাদের দিক থেকে এ রকম হুমকি দেওয়া হয়েছে, কোন কোন ইনস্টিটিউশন রাষ্ট্রের কাঠামো মধ্যে থেকেও ফ্যাসিবাদী কাজ করে যাচ্ছে, সেটা সরকার খতিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, কোনটা মব, আর কোনটা রাজনৈতিক কর্মসূচি, সেই পার্থক্যটা বুঝতে হবে। রাজনৈতিক দল কীভাবে মব করে? একটি নিবন্ধিত দলের কর্মসূচিকে কীভাবে মব বলবেন? তিনি আর বলেন, প্রথমে হামলা হয়েছে জাতীয় পার্টির দিক থেকে। আমরা এর আগেও দেখেছি, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এরকম উত্তপ্ত পরিস্থিতি হতেই পারে। কিন্তু এটাকে ‘মব’ বলে একটা পক্ষকে নিউট্রালাইজড করা এবং আরেকটা পক্ষকে ফ্যাসিলিটি দেওয়া ঠিক হবে না। জাতীয় পার্টি একটি সুনির্দিষ্ট ও চিহ্নিত ফ্যাসিবাদী।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ বলেন, আমরা দেখেছি বিগত সময়ে কীভাবে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী সংসদকে বারবার বৈধতা দিয়েছে জাতীয় পার্টি, কীভাবে ভারত থেকে প্রেসক্রিপশন এনে বাংলাদেশে কৃত্রিম সংসদ তৈরি করেছে, কৃত্রিম গণতন্ত্র দেখিয়েছে। এই চিহ্নিত ফ্যাসিবাদীদেরকে কোনোভাবে যদি কেউ সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করে, সবাই মিলে তা প্রতিহত করতে হবে।