মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলায় পৃথক তিনটি ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের রশুনিয়া গ্রামের ঋষিপাড়ায় নিজ বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আকাশ ঋষি (২২) নামে এক যুবক। রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আকাশ ওই এলাকার নীল কৃষ্ণ ঋষির ছেলে।
সিরাজদিখান থানার ওসি মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার জানিয়েছে, তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে ভুগছিলেন। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে।
একই উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের উত্তর পাথরঘাটা এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে আমজাদ হোসেন ঢালী (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার দুপুর ১টার দিকে এ মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আমজাদ কেরানীগঞ্জ উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং হযরতপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শিমুল আহমেদ সাদ্দামের বড় ভাই।
শিমুল আহমেদ জানান, আমার ভাই কৃষিকাজ করতেন এবং সহজ সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে মাছ ধরতে নদীতে গেলে তিনি নিখোঁজ হন। পরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়রি করা হয়। তিন দিন পর তার মরদেহ পাওয়া গেল। কেরানীগঞ্জে মডেল থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, যেহেতু মরদেহটি নদীতে পাওয়া গেছে, তাই ঘটনাটি তদন্তে নৌ-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, শ্রীনগর উপজেলার আটপাড়া গ্রামের নিজস্ব কলাবাগান থেকে রোববার সকালে আয়নাল হক (৬৫) নামের এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আয়নাল হক ওই গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রী শাহিদা বেগম জানান, শনিবার রাত ৮টার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। সকালে স্থানীয়রা কলাবাগানে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।
শ্রীনগর থানার ওসি নাজমুল হুদা খান জানান, মরদেহের কয়েকটি স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটি হত্যা না কি অন্য কিছু, তা ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।